Dhaka    Tuesday, 15 June 2021

By অনুপম অরণ্য

করোনা ও বিশ্ব অর্থনীতি

Media School June 29, 2020

করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটা বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ছবি : foreignpolicy.com

করোনাভাইরাস চীনের কোনো ল্যাবরেটরিতে তৈরি হোক বা না হোক, চীন থেকেই যে সেটা ছড়িয়েছে, সেটা নিয়ে বিতর্ক নেই। আর এই করোনাভাইরাস আরেকদিক দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কতটা অপরিহার্য অবস্থানে নিজেদেরকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিতে অবদান বলতে শিল্পপণ্য উৎপাদন, শিল্পপণ্যের কাঁচামাল সরবরাহ, কলকারখানার মেশিনারিজ উৎপাদন ও সরবরাহ, প্রযুক্তি বিনিময়, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, আর্থিক পুঁজি বিনিয়োগ, বহির্বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রকেই বুঝতে হবে। এই সকল ক্ষেত্রই প্রভাবিত হয়েছে করোনার আক্রমণে। তার কারণ, ওই সকল ক্ষেত্রেই চীন পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ সাপ্লায়ার এবং উৎপাদক। চীনকে বলা হয় 'পৃথিবীর কারখানা'। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কারখানা রয়েছে চীনে। এছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজের সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্কের প্রধান পার্টনার হচ্ছে চীন। চীনে কলকারখানা বন্ধ থাকার ফলেই দুর্গতিতে পড়েছিল সারা বিশ্বের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। পরে দুর্গতি আরো বেড়েছে, কারণ সাপ্লাই চেইনের বিকল্প দেশগুলোও এখন করোনায় আক্রান্ত। ফলে সাপ্লাই চেইন ও প্রোডাকশনে একটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এক্সপোর্ট ও ইমপোর্ট - দুটোই সীমিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিংয়ে ধীরগতি নেমে এসেছে। এই পরিপ্রেক্ষিত থেকে ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে উৎপাদন ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে।

উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো সাপ্লাই চেইনে বৈচিত্র্য (ডাইভার্সিফিকেশন) আনতে সক্রিয় হবে। ফলে এতোদিন যারা শুধু এক চীনের ওপর নির্ভর করে ছিলো, তারা এখন কাঁচামাল বা যন্ত্রাংশের অন্য উৎস খুঁজতে থাকবে। ফলে চীন ব্যবসা হারাবে এবং যতটুকু হারাবে, ততটুকু অন্যদের মধ্যে ভাগ হবে। এভাবে সাপ্লাই চেন ফ্রাগমেন্টেশন বাড়বে।

বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সস্তা শ্রম এবং সহজলভ্য কাঁচামাল বা যন্ত্রাংশের জন্য নিজেদের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে কারখানা স্থাপন করে, যেটাকে অফশোরিং বলা হয়ে থাকে। গ্লোবালাইজেশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা বোধ হয় এটা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি এই অফশোরিংকে সহজ করেছে। কিন্তু অফশোরিং সুবিধা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরদেশ-নির্ভরশীলতা, মূলত চীন-নির্ভরতা ত্যাগ করে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। আমেরিকান কোম্পানিগুলো চীন বা অন্যান্য দেশ থেকে ফ্যাক্টরি গুটিয়ে নিয়ে আমেরিকাতে নতুন করে ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে পারে। এটাকে বলা হচ্ছে রি-শোরিং। উৎপাদন প্রযুক্তির উন্নতির ফলে উৎপাদন খরচ এখন কমেছে। তাছাড়া চীন ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে বেশ খানিকটা উন্নতির ফলে সেখানে শ্রমের মজুরি বেড়েছে। ফলে সস্তা শ্রমের যে সুবিধা তারা পেত চীন বা অন্য দেশে, সে সুবিধা এখন তেমন পাচ্ছে না। এ কারণে কোম্পানির মাদার কান্ট্রিতে ফিরে যাওয়ার তৎপরতা বাড়তে পারে। আর এতে করে নিজ দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে। আমেরিকার বাণিজ্য সচিব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘরে ফেরার আহবান জানিয়ে রেখেছেন সেই ফেব্রুয়ারিতেই। জাপান তাদের কোম্পানিগুলোকে চীন থেকে স্বদেশে ফিরে আসার আহবান জানিয়ে দুই বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে।

জাতীয়তাবাদী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো সংরক্ষণবাদী নীতির (প্রটেকশনিজম) কথা জোর গলায় বলছে। চীন ও আমেরিকার মধ্যে যে বাণিজ্য-যুদ্ধ চলছে, সেই যুদ্ধের ধরন হচ্ছে এক দেশ আরেক দেশের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ট্যারিফ আরোপ করা। আমদানির ক্ষেত্রে ট্যারিফ বসালে দেশীয় শিল্পের সুবিধা হবে। দেশীয় শিল্পের পণ্যমূল্য অপেক্ষাকৃত কম হবে, ফলে বাজারে তারা আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে। সেই সাথে শিল্পের কাঁচামালের সাপ্লাই যদি দেশীয় হয়, তাহলে অর্থনীতিতে শিল্প ও কৃষি - দুটো খাতেরই প্রবৃদ্ধি হবে।

এককথায় বলা যায় যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে এতোদিন ধরে যে সমন্বয় বা একীভবন (ইন্টিগ্রেশন) এবং পারষ্পরিক-নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল অর্থাৎ বিশ্বায়ন ঘটছিল, সেটার গতি কমে যেতে পারে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং চূড়ান্তভাবে নেতিবাচক আউটকাম হিসেবে ডিগ্লোবালাইজেশন বা রিভার্স গ্লোবালাইজেশন শুরু হতে পারে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধনী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্ভরতা ত্যাগ করে স্বনির্ভরতা অর্জন করার পথ সুগম হবে । ২০০৮-১০ এর বিশ্বমন্দার সময়ই এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্ভরতা এবং পারষ্পরিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতির কুফল বুঝতে পেরে তখন থেকেই এটা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি সেই চিন্তা-ভাবনাকে বাস্তবে রূপদান করতে পারে।

চীন আগে থেকেই রপ্তানিমুখী নীতি থেকে ফিরে গিয়ে দেশীয় শিল্প বিকাশের নীতি গ্রহণ করেছে। ফলে রপ্তানিতে চীনের অবদান ২০০৮ সালে জিডিপির ৩১% থেকে ২০১৯ সালে এসে হয়েছে ১৭ শতাংশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ১৩ থেকে ৩১ শতাংশ কম হতে পারে। আমেরিকা এখন অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে নিজেদের অর্থনীতিকে এক্সটারনাল শক থেকে রক্ষা করার জন্য সংরক্ষণনীতি গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমতে শুরু করেছে। এটাকে বলা হচ্ছে 'slowbalization'!

এ সবই তো হলো উন্নত বিশ্বের কথা। কিন্তু আমাদের কী হবে? করোনার প্রভাবে দেশে সবক্ষেত্রেই স্থবিরতা বিরাজ করছে। সবচেয়ে বিপদে আছে, যারা ছোট ছোট ব্যবসা করতো, তারা। তাদের ব্যবসা বন্ধ, তাই রোজগার নেই। বাকিটা বোধগম্য। 'মধ্যম আয়ের দেশ' কথাটা অন্তঃসারশূন্য প্রমাণিত হচ্ছে। ঢাকা শহরের রাস্তায় বিস্ময়কর রকমের বেশি ভিক্ষুক দেখা যাচ্ছে। দুই মাস বিনা আয়ে ঘরে বসে খাওয়ার সামর্থ্য এদের যেমন নেই, সরকারি সাহায্যও হয়তো এরা ঠিকমতো পায়নি।

নিওলিবারেল ইকোনমি রাষ্ট্রকে বলতে গেলে প্রায় হাতের মুঠোয় বন্দী রাখে। রাষ্ট্রের প্রধান কাজ হয় তখন শিল্পমালিকদের স্বার্থের পাহারা দেওয়া। সেটা করতে গিয়ে রাষ্ট্র ভুলে যায় তার সাধারণ নাগরিকদের; বিশেষত সমাজের ইকোনমিক্যালি মার্জিনাল ক্লাসকে। এই শ্রেণির কন্ঠ পৌঁছায় না মিডিয়াতে, পৌঁছায় না রাজনৈতিক সরকারের অন্দরমহলে। ফলে এরা থেকে যায় বঞ্চিত। শিল্পমালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিশালী সংগঠন আছে। তারা সরকারকে প্রভাবিত করে। তাছাড়া সরকারি দলের সংসদ সদস্য, মন্ত্রীদের অধিকাংশই ব্যবসায়ী। তারা সরকারে বসে দেশের নয়, নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থকেই গুরুত্ব দেবে- এটা আশ্চর্যের কিছু নয়।

অর্থনীতিতে যে মন্দা আসতে যাচ্ছে, তার ফলে আরো অনেক মানুষ কর্মহীন হবে। যাদের চাকরিতে ঢোকার সুযোগ ছিলো, তাদের অনেকেই চাকরির সুযোগ পাবে না। কারণ ইকোনমিক ডিপ্রেশনের সময় ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ হবে না। ফলে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে না। এছাড়া আমাদের এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড সেক্টর পড়বে সবচেয়ে বিপদে। আরো উদ্বেগজনক হবে যদি রিভার্স গ্লোবালাইজেশন শুরু হয়; অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্বের দেশে উন্নত বিশ্বের যে পুঁজি এতোদিন বিনিয়োগকৃত ছিলো, সেটা উন্নত বিশ্ব যদি প্রত্যাহার করে নিজেদের দেশে ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করে।

আমাদের দেশে একটা কথা প্রচলিত আছে, "বাংলাদেশের বাজার ভারত বা চায়না 'দখল' করে রেখেছে"। আমরা এমনভাবে কথাটা বলি যে, মনে হয় ভারত কিংবা চায়না জোরপূর্বক আমাদের দেশের দোকানগুলোতে তাদের দেশের পণ্যসম্ভার ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে। অর্থাৎ বাক্যটার মধ্যে ভারত ও চায়নাকে দোষী সাব্যস্ত করার একটা সুর আছে। আদতে এই ব্যাপারে তাদের কোনো দোষ নেই; দোষ থাকলে সেটা আমাদের। অন্যের ঘাড়ে দোষ দিয়ে নিজেদের অক্ষমতাকে আড়াল করা এবং নিজেদের নিষ্ক্রিয়তাকে জাস্টিফাইড করার 'সু-অভ্যাস' আছে আমাদের। আমরা ভারত থেকে বছরে প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলারের এবং চায়না থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি মূল্যের পণ্য ও সেবা আমদানি করি। আমরা ওদের পণ্য কিনি বলেই সেগুলো আমাদের দেশের দোকানে আসে, ওরা জোর করে আমাদের দোকানে ঢেলে দিয়ে যায় না। বিনিময়ে আমরাও তুলনায় খুব সামান্য পরিমাণ মূল্যের পণ্য ভারত ও চায়নাতে রপ্তানি করি। চায়নাতে শেষ অর্থবছরে মাত্র ৮০০ মিলিয়ন ডলার এবং ভারতে ১.২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ভারতে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য এই প্রথম বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। সিপিডির ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান এক প্রবন্ধে লিখেছেন, ঢাকা-দিল্লি পণ্য পরিবহন খরচ ঢাকা থেকে ইউরোপীয় বা মার্কিন বন্দরে পরিবহন খরচের চেয়ে অনেক বেশি। বাণিজ্য-সংযোগের কার্যকারিতা পরিবহন, বিনিয়োগ ও লজিস্টিকস কানেক্টিভিটির কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে। সাফটা চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত তার বাজারে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারছে না। অন্যদিকে চীনের সাথে আমাদের প্রায় ১১ বিলিয়ন ও ভারতের সাথে ৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এই ক্ষেত্রেও দোষটা মূলত বাংলাদেশেরই, তারপর ভারত ও চীনের।

চীনের কাছে বিক্রি করার মতো কী পণ্য আছে আমাদের, যা আমরা তুলনামূলক কম মূল্যে ও ভালো মানে তাদেরকে দিতে পারি? অন্যদিকে চীন হচ্ছে 'পৃথিবীর কারখানা'। সবকিছু উৎপাদনের দেশ চীন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে গত বছরে আমদানি করেছে ৫৫৭.৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ও সেবা। বিপরীতে চীনে রপ্তানি করেছে মাত্র ১৭৯.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ও সেবা। বাণিজ্য ঘাটতি ৩৭৮.৬ বিলিয়ন ডলার। আমাদের মতো করে বললে বলতে হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার চীন দখল করে ফেলেছে (অতএব চীন দখলদার)। ভারতের সাথেও চীনের ব্যাপারটা একইরকম। শেষ অর্থবছরে ভারত চীনে রপ্তানি করতে পেরেছে ১৬.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য। আর আমদানি করেছে ৭০.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য। বাণিজ্য ঘাটতি ৫৬.৩ বিলিয়ন ডলার। এখানেও চীন দখলদার। ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা সেটি উপলব্ধি করে (!) এখন চীনা টিভি, মোবাইল এসব ভাঙছে একটা-দুটো। চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিচ্ছে। এরা জানে না যে, চীন ভারতে যা রপ্তানি করে তা চীনের মোট রপ্তানির ২% মাত্র। অন্যদিকে ভারত সারা পৃথিবী থেকে যতটুকু আমদানি করে, তার ১৩.৬৯ শতাংশ করে চীন থেকে। চীনা পণ্য বয়কট করলে চীনের তেমন ক্ষতি নেই, যতটা ক্ষতি ভারতের। আমেরিকা তাদের ৪০% জেনেরিক ওষুধ আমদানি করে ভারত থেকে। আর ভারত সেই ওষুধের কার্যকরী ৭০% উপাদান আমদানি করে চীন থেকে। তেমনি বাংলাদেশ আমেরিকাতে যে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সুতার সিংহভাগ আমদানি করে ভারত থেকে।

পৃথিবীকে তুলনামূলক কম মূল্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য দেওয়ার ক্ষমতা আছে চীনের, আমাদের নেই। বেশিরভাগ দেশেরই নেই। এটাই মূল কথা। এই জায়গা থেকেই আমাদের দেশে বিভিন্ন শিল্পের সূচনা ও প্রসারের কথা ভাবা দরকার। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের মতো আমাদের পক্ষে ভারত বা চীন - কোনো দেশের পণ্যকেই বয়কট করার মতো অবস্থা আসেনি। ভারতও পারবে না চীনের পণ্য পুরোপুরি বয়কট করতে। তবে এই সুযোগে ভারত হয়ত দেশীয় শিল্প বিকাশের চেষ্টা করবে। ভারতের অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে সেই মর্মে কিছু সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশেরও এখন জোর দিয়ে এটা ভাবা দরকার। চীন ও ভারত-নির্ভরতা হ্রাস পাক, আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমুক, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি এবং বেশি বেশি বিদেশি বাজার খুঁজে আরো বেশি ধরনের পণ্য রপ্তানি হোক। সর্বোপরি, দেশ থেকে অর্থপাচার বন্ধ হোক এবং সেই টাকায় দেশেই বিভিন্ন শিল্প স্থাপিত হোক। তবে পরিবেশের কথা এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও উপযুক্ত বেতন-ভাতার কথা গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। আর দেশের মধ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে করে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়।

আমেরিকা-চীন বাণিজ্য-যুদ্ধ এবং করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটা পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, যেখানে অনেক কোম্পানি হয়ত চীন থেকে কারখানা সরিয়ে নেবে অন্য কোনো দেশে। বাংলাদেশ যেন বড় কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আসতে পারে, এই চেষ্টাও হোক। ভারত নাকি মে মাসে প্রায় এক হাজার বিদেশি কোম্পানির সাথে কথা বলেছে ভারতে বিনিয়োগের জন্য। দুটো লুক্সেমবার্গ শহরের সমান জায়গা বরাদ্দ রেখেছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য। নিজ নিজ দেশের কোম্পানিগুলোকে চায়না থেকে কারখানা সরিয়ে স্বদেশে বা নিকটবর্তী কোনো দেশ বা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশে প্রতিস্থাপনের জন্য সে দেশের কর্তৃপক্ষ নানাবিধ প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে। আশা করি বাংলাদেশও বসে নেই।