By সজীব সরকার
জেন্ডার সমতা (Gender Equality)
Media School October 5, 2026
প্রতীকী ছবি।
জেন্ডার সমতা বলতে লিঙ্গ নির্বিশেষে সমাজের প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার, সুযোগ, দায়িত্ব এবং মর্যাদা পাওয়াকে বোঝায়।
অর্থাৎ, জেন্ডার সমতা হলো এমন একটি ধারণা যেখানে বলা হয় সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী, পুরুষ বা অন্য যেকোনো লিঙ্গের মানুষ সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা পাবে। এর মানে হলো, কাউকে তার জেন্ডারের কারণে ছোট করে বা আলাদা চোখে দেখা যাবে না; শিক্ষা, চাকরি, পরিবার ও সমাজ পরিচালনায় এবং রাজনীতিতে সবাই সমান সুযোগ পাবে।
এখানে অবশ্য খেয়াল রাখতে হবে- জেন্ডার সমতা মানে বিভিন্ন জেন্ডারের মানুষের (যেমন: নারী ও পুরুষের) হুবহু এক হওয়া নয়; বরং সবার প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ করা এবং বৈষম্য দূর করা।
বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থা যেমন UN Women এবং European Institute for Gender Equality-এর মূল নীতিগুলোতে এ প্রসঙ্গে কী বলা হয়েছে, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া যেতে পারে:
অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাষা: এখানে নারী, পুরুষ এবং সব লিঙ্গের মানুষের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল অধিকার: এতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো জীবনের প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে সমান সুযোগ, অধিকার এবং আচরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
লৈঙ্গিক পার্থক্যের স্বীকৃতি: এতে বলা হয়েছে যে জেন্ডার সমতা মানেই হুবহু এক হওয়া নয়, বরং একজনের অধিকার ও সুযোগ যেন তার জন্মগত লিঙ্গের ওপর নির্ভর না করে - সেটি নিশ্চিত করা।
সাধারণভাবে জেন্ডার সমতার মূল দিক
সমান অধিকার: আইনগত, সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সহ সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
সুযোগের সমতা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাওয়া।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ: পরিবার ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বা নেতৃত্বমূলক পর্যায়ে সমানভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকা।
জেন্ডার সমতার গুরুত্ব
সামাজিক উন্নয়ন: এটি সমাজের সার্বিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
মানবাধিকারের সুরক্ষা: এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার যা বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়তে সাহায্য করে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: নারী, পুরুষ ও অন্য লিঙ্গের মানুষদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
অর্থাৎ, সমাজে শান্তি ও উন্নয়ন আনতে হলে জেন্ডার সমতা অত্যন্ত জরুরি।
জেন্ডার সমতার পথে বিদ্যমান বাধা এবং এর প্রতিকার
এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে: লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত, সামাজিক কুসংস্কার, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (Gender Based Violence) এবং অর্থনৈতিক অসমতা।
উত্তরণের উপায়: মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার, কঠোর আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জেন্ডার সংবেদনশীল নীতি প্রণয়ন।
জেন্ডার সমতা অর্জন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৫ (SDG 5)-এর মূল উদ্দেশ্যেরও অন্তর্গত।

